(This is a fan fiction based on Feluda, or Prodosh C Mitter, the evergreen detective Satyajit Ray created. Reviews are always welcome!
Illustration, অগ্নিভ সেন)
দোনামনা কাটিয়ে মাফলারটা গলায় জড়িয়ে নিল ফেলুদা| নয় নয় করে তো আর কম বয়স হল না! এই বয়সে নিউমোনিয়ার গ্রাসে পরলে আর রক্ষে নেই|
শরীর চর্চাটাও ক'দিন হল বেশ অবহেলিত| আবার মন প্রাণ দিয়ে লাগতে হবে| হাইপারটেনসান-টা কনট্রোল করতে হবে| তা ছাড়া আর কোন রোগ নেই তার| খাদ্যরসিক সে চিরকালেরই, কিন্তু কোন দিনই সে মাত্রাতিরিক্ত খায় না| চারমিনারও কমিয়ে দিনে একটা করে দিয়েছে, এবার বোধহয় ছাড়তেই হবে ওটাও|
দরজাটা খুলে বেরোতে গিয়ে হঠাৎ বুকের ভিতরটা ছ্যাৎ করে উঠল| আজকাল মানিকদা আর লালমোহন বাবুকে বড্ড মিস্ করে ফেলুদা আর তোপসে| কিরকম অসময়ে চলে গেলেন দুজনে! যেন সত্যিই জটায়ুকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন সত্যজিৎ!
এখন নভেম্বর মাসের মাঝা-মাঝি, ঠান্ডা ও তেমন পরেনি, কিন্তু এই ঠান্ডাতেই তোপসে কাবু| এই বয়সেই এই অবস্থা! ফেলুদা তার থেকে পাক্কা সাড়ে তেরো বছর বড়| অথচ দেখ? এখন তোপসের সামনে ফেলুদাকেই ইয়ং লাগে|
বাজারে পৌঁছে কানাই-এর দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো ফেলুদা|
'ওরে কানাই, ভাল তোপসে মাছ রেখেছিস, তো?'
'হ্যাঁ বাবু, একটু দাঁড়ান!'
'আচ্ছা তুই পরিস্কার করে রাখ, আসছি আমি|'
আজকের দিনটা তোপসে কাছে খুবই বিশেষ| জন্মদিন, তার উপর আবার মেয়ে, জামাই আর নাতনির আসার কথা!
ফেলুদার আর বিয়ে করা হয় না| করার ইচ্ছেও হয় নি কোনও দিন| তবে, তোপসে বিয়ে করেছিল| একেবারে সানাই বাজিয়ে, পালকি চেপে, বাড়িতে বৌ এনেছিল| মেয়েটিকে অবশ্য আগে থেকেই চিনতো ফেলুদা, তোপসের সঙ্গে প্রেসিডেন্সিতেই পড়তো|
ফেলুদা নিজের সব আশা তোপসের মধ্যে দিয়েই মিটিয়েছিলো| তিন্নি জেঠুর ন্যাওটা ছোটবেলা থেকেই, সমস্ত কেসে তার সাথে যাওয়ার বায়না জুড়ত| গেছে অবশ্য মাত্র দু-তিনটে তে| স্কুলের বড় কড়াকড়ি ছিল ওদের, ভাগ্যিস্ তোপসেদের তা ছিল না! আজ সেই তিন্নির বিয়ে হয়ে গেছে বছর আটেক হল! তাথৈ-এর ও তো প্রায় স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স হয়ে গেল!
... To be Continued ....