ফোনটা হাতে নিয়ে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল বেলা| কি যে করবে সে, বুঝতে পারে না|
হতভম্ব, হতবাক সে|
রিসিভার টা আলতো করে নামিয়ে রাখল বেলা| মিনিটের কাঁটা ঘুরতে না ঘুরতেই আবার বেজে উঠলো ফোনটা|
'হ্যালো?'
'অঞ্জন দত্ত| বয়স বছর পঁচিশেক, বি এ পাস| স্টারটিং স্যালারি এগারোশো, কনফারমেশন তিন মাস পর| কি ম্যাডাম? খুশি তো?'
কিছু বলতে পারে না বেলা| তার একমাত্র শর্ত রেখেছে ববি|
'কিন্তু একটা প্রবলেম আছে জান তো...'
বুকের ভিতরটা ছ্যাৎ করে ওঠে তার| 'কী?'
'ছেলেটা বড্ড ভবভোলা|'
আপন মনে হেসে ওঠে বেলা| এই নিয়ে কম বকাবকি করেছে সে অঞ্জন কে?
'জানি| তবে মনটা বড্ড ভাল ওর|'
'আচ্ছা? এত ভাল করে ওর মন বোঝো নাকি?' ব্যঙ্গের সাথে বলে ববি| সঙ্গে সঙ্গে আবার কথা ঘুরিয়ে দেয় সে|
'আচ্ছা শোনো? পাঁচটা নাগাদ গাড়ি নিয়ে তোমার বাড়ি আসছি| সাউথ সিটি যাব| শপিংটা শেষ করতে হবে তো বিয়ের! আর কটা-ই বা দিন বাকি! আর, ইয়ে, আমাদের বিয়ের কার্ড টা একবার দেখবে না?' এক নাগারে বলে যায় ববি|
'বেশ, দেখব, এনো আজ এক কপি| রেডি থাকব পাঁচটায়|'
'বাই দা ওয়ে,মেসোমশাই আজ ই আসছে ব্যাঙ্কক থেকে| বলল তোমার জন্য একটা এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের ব্রেসলেট আনছে| ডায়মন্ড স্টাডেড| স্বারভস্কির...'
বাকি কথাটা আর কানে ঢোকে না বেলার|
খেয়াল হল যখন, ততক্ষণে ফোনের ওপার থেকে বিদায় নিয়েছে ববি|
'তুমি বড্ড কিরম মত| ফিলোসফির স্টুডেন্ট, বোঝা যায়|',বলবে সে,আগের বারের মত|
একটা দীঘ্স্বাশ ফেলল বেলা| রিসিভারটা নামিয়ে রেখে ঘরে গেল| অসুস্থ মায়ের দিকে একবার-ও না তাকিয়ে টেবিলের সামনে গিয়ে বসে পড়ল| কলেজের ব্যাগ হাতড়ে বের করল সেই ব্রেসলেট টা|
অঞ্জন এনে দিয়েছিল, শান্তিনিকেতন থেকে| পুঁতি দিয়ে বানানো| কত আর দাম ওটার? দশ টাকা বড়জোর, নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে সে|
খানিকক্ষণ ওটা পরে জানলার দিকে তাকিয়ে বসে থাকল...
কতক্ষণ ওভাবে কেটেছে, জানে না বেলা| যখন উঠে স্নান করতে গেল, তখন প্রায় একটা বাজে|
সেদিন বিকেলে, তাদের বাড়ির কাজের মাসির মেয়ে সেই ব্রেসলেট টা পরে খেলতে গেল বন্ধুদের সাথে বিকেলে|